Your task is not to seek for love, but merely to seek and find all the barriers within yourself that you have built against it.

💗LIVE IN THE PRESENT💗#বর্তমানে_বাঁচো

আসলে অতীত, বর্তমান নাকি ভবিষ্যৎ… কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

ইংরেজিতে একটা কথা আছে- Living in the present. অর্থাৎ বর্তমানে বাঁচা। আসলে আমরা তো বেঁচে থাকি বর্তমানে। অতীত বা ভবিষ্যতে বাঁচিনা।

মনে করি, আমি বান্দরবানে বেড়াতে গেলাম। সেখানে গিয়ে চিন্তা করছি যে সামনে কি পরীক্ষা আছে বা কবে প্রমোশন পাব অথবা কার কাছে কত টাকা পাব, সেই টাকা দিয়ে কি করব ইত্যাদি। এসবের চিন্তায় বিকালের মিষ্টি রোদ পাহাড়ের গায়ে পরে কেমন সুন্দর আভা তৈরি করল বা আকাশের গায়ের ঐ রংধনু এসব উপভোগই করতে পারলাম না। অর্থাৎ আমার বেড়াতে যাওয়ার মত টাকা বা সময় আছে অথচ মনটা অন্য কোথাও। এতে করে আমার সাথে যারা বেড়াতে যাবে, বন্ধুবান্ধব বা পরিবার কেউই আমার সঙ্গ উপভোগ করতে পারবে না। সবাই বিরক্ত হবে।

আবার, হয়তো আমি স্কুল বা কলেজের বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেলাম।সেখানে গিয়ে কে কত ভালো জব করে, কে কত ভালো বিয়ে করেছে, কার বাচ্চা কত ভালো রেজাল্ট করেছে এগুলো নিজের সাথে তুলনা করা শুরু করলাম। একটু পরে আমার মন আর গেটটুগেদারে থাকবে না। সে বর্তমান ছেড়ে অতীত আর ভবিষ্যতে ঘুরাঘুরি শুরু করবে। এভাবে আমি নিজেকেও আনন্দঘন মূহুর্ত থেকে বঞ্চিত করছি আবার অন্যদের কাছেও একজন বিরক্তিকর ব্যাক্তিত্ব হয়ে উঠছি।

ছোটবেলায় বইতে পড়েছিলাম- “বর্তমান… সে তো বয়েই চলে যায়, ভবিষ্যতের চিন্তা করাই জ্ঞানীর কাজ।” কিন্তু সারাক্ষণ ভবিষ্যতের চিন্তা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বর্তমানকেই ভুলে যাই।

এই যে সারাক্ষণ আমরা ভবিষ্যতের চিন্তা করছি জ্ঞানীর মত আর দুশ্চিন্তার সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছি , এটা আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য বিপদজনক। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিভাবে বের হবেন? নিজের চিন্তাধারা ও মানসিকতা বদলাতে হবে এবং বর্তমানের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর প্র‍্যাকটিস করতে হবে।

জীবনে সবকিছুই কমবেশি আপেক্ষিক; সুখ – দুঃখ, সফলতা-ব্যর্থতা, ভালো থাকা- খারাপ থাকা সবই আপেক্ষিক। কেউ সফল মানে এই না যে তার প্রত্যেকটা দিন ভালো যায়।আবার কেউ ব্যর্থ মানেও তার সবদিন খারাপ যায় এমন না। লাইফ সবসময় মানুষকে সারপ্রাইজ দেয়, আমরা জীবনকে যেভাবে চলবে বলে আশা করব, কখনোই সবকিছু সেভাবে চলবে না। যত সফল বা ধনীই হোক, সবার জীবনেই বার্ধক্য আর মৃত্যু আসে। এবং সেটা ঠিক কোন মুহূর্তে এসে হাজির হবে কেউ বলতে পারে না।

লাইফের আনপ্রেডিক্টেবিলিটি বা ব্যার্থতাগুলো যারা সহজে হজম করতে পারেনা, তারাই বেশি হতাশায় ভুগে। যারা ছোটবেলা থেকে সুন্দর, ভালো আর মেধাবী হিসেবে পরিচিতি পায়, তাদের এই সমস্যা আরোই বেশি হয়। কিন্তু সচেতনভাবে চেষ্টা করলে এই মানসিকতা থেকে সহজেই বের হয়ে আসা সম্ভব। এজন্য যা করতে হবে-

১.জীবনের ভালো সময়গুলো উপভোগ করতে শিখতে হবে।

২.বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৩.অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা যাবে না।

৪.মানুষের প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে। মানুষকে সারাক্ষণ জাজ করলে আর উঁচু -নিচু গ্রেডিং করলে দিনশেষে আপনি নিজেকেও জাজ করবেন আর উঁচু -নিচু গ্রেডিং করবে। ছোট -বড় সবাইকেই সম্মান দিতে শিখতে হবে।

৫.ব্যার্থতাকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে শুরু করার মানসিকতা রাখতে হবে।

৬.জীবনকে অতিরিক্ত সিরিয়াসলি নেয়ার দরকার নাই, কারণ দিনশেষে মরেই যাবেন😂

৭.নিজের প্ল্যান বা মোটিভেশনকে বাস্তবসম্মত রাখতে হবে। একদিনেই অনেককিছু করে ফেলার চিন্তা করলে হবে না। আস্তে আস্তে এগোতে হবে।

Writer: Taleya Iqbal

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply