হে বিশ্বাসীগণ নিজের আত্মাকে পাহারা দাও ৷ যদি তুমি ন্যায়ের অনুসরণ কর, বিপথগামীরা তোমার কোন ক্ষতিই করতে পারিবে না ৷

— আল কোরআন

ডানা ঝাপটানো বৃষ্টি

পাখির মত ডানা ঝাপটানো বৃষ্টি আজ। গত দুই দিনের তীব্র দাবদাহের পর আজ রাতে হঠাৎ এই আগমন। এক তীব্র আর্তনাদ যেন, ঠিক আমার মত। তীব্রতাটা প্রচন্ড তীব্র, মাঝ থেকে আমার এই বোবা জীবনের প্রাকাশটুকু ও কেড়ে নেয়। কিছু কিছু কাল কিছু অনুভূতি এতটাই নতুন আর এতটাই জীবন্ত আমি দিশেহারা হয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি, আংগুল দিয়ে কি বোর্ডের বোতাম চাপতেও অসাড় হয়ে যাই। যেন, জীবনে প্রথম শোনা রবীন্দ্র সংগীত, প্রথম চুম্বন, প্রথম নিজের নাড়ী ছেড়া ধনের গায়ের ঘ্রাণ অথবা প্রথম সমুদ্র দর্শন। সব প্রথম মিলে আমার এই প্রথম অনুভব। কালের মতই পুরাতন আবার সদ্যোজাত শিশুর মতই নতুন। এর আবেদন যে আলোড়ন তুলে আমার মাঝে আমি ভাষা হারা, দিশেহারা, দিকহারা আর অবিবেচক হয়ে যাই। বেসামাল হতে হতে সামলাই আবার হারাতে হারাতে নিজেকে খুঁজে পাই। কখনো মনে হয় এ কোন অবচেতনে করা পাপের শাস্তি, কখনো বা মনে হয় এ শুধু এই জীবনে করা সব পূর্ণের উপহার৷ আমি বার বার ভাংগে চূড়ে সাগরের সফেদ ফেনায় চূড় চূড় হতে চাই, একই সাথে কষ্টি পাথরের মূর্তি হয়ে নিজেকে নিরবতায় চাই। কি চাই আমি? উপর থেকে যদি কেউ বলে দিত, আমার পথটা, আমি বেচে যেতাম। এই যাত্রায় বেচে যেতাম।
ব্যস্ততা ব্যস্ততা আর অসম্ভব ব্যস্ততায় ঘিরে রাখি সব। দূর পাহারের বাঁশির ডাক,গহীন সমুদ্র হতে গাংচিলের নিমন্ত্রণ, আমার গায়ে ফোটা জোনাকির আলো সব এক সাথে করে দূরে ঠেলে দেই। চাই না এইসব আমার মস্তিষ্ক ভেদ করে আমার অন্তরে দোলা দেক। বড় কষ্ট সবকিছুতে, বড় অন্যায় ভালোলাগায়৷ প্রতিটি শেষ রাতে আমার মরণ যেন, ভোর হলে আবার নিজেকে গড়িয়ে নিয়ে আবার সব শুরু করা।অভিনয় অভিনয় এ বেলা পার করা, অথচ আমি অভিনেতা নই। আমি আসলে কিছুই নই বোধ হয়। না মানুষ, না অমানুষ, না প্রেমিক, না সংগী। কিছুই নই আমি, ধূলিকণা হতে ইচ্ছে করে। এক আমি থেকে গুড়ো গুড়ো অসংখ্য আমি, মিশে যাই ধরনীর বুকে। এক আমার ভালোবাসায় আমার ঠিক পোষায় না হয়তো। অজস্র আমি হয়ে, অসংখ্য রুপে, অগণিত বার ভালোবাসতে চাই আমি।

Writer: Meghna

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply