The moment you accept what troubles you’ve been given, the door will open.

আমি আমার মতো

কি, বাইক টি আমার? স্বপ্নেও সম্ভব নয়। আমার যা কিছু আছে, সব বেঁচে দিলেও ঘোস্ট রাইডার বাইক কিনতে পারতাম না। আর পারলেও কি হতো? আমাকে কি কিয়ানু রিভ্স এর মতো হ্যান্ডসাম দেখাতো?, আর্নল্ড শোয়ার্ডজনিগার এর মতো বডি বিল্ডার হয়ে যেতাম?, না ইথান হক এর মতো ফিউচার ট্রাভেল করে বেড়াতাম? কিছুই হতো না। ঘুম থেকে উঠেই সেই পাওনাদার এর চিৎকার, সেই ময়লা ছড়ানো দূর্গন্ধময় পথে নাক চেপে চলা, বাড়ি ফিরে সেই পরিচিত বিছানার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগোছালো জীবন। সব, সব একই রকম।
তাঁর পরও এড়িয়ে চলতে চাওয়া অতি পরিচিত এই জীবন বড় ভালবাসি। ভালবাসতে বাধ্য হই। আমি যেমন, তেমন-ই বাস্তবতা। এর বাইরে কিছুই নেই। কিন্তু অনেকেই তা বোঝে না। ক্লাসে সবাই যদি প্রথম হতো, তাহলে পরীক্ষার কি দরকার? একটা মাত্র ছেলেকে বাবা-মা ক্লাসে প্রথম বানাবে। ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, বিসিএস সব বানাবে। অমুকের ছেলেকে দেখেছিস? কি-না করেছে। তমুকের মেয়েকে দেখেছিস? কি-না করছে। আর তুই? কিছুই না।
এভাবে বাবা-মা সেই শিশুকাল থেকেই প্রথমে তাঁর মতো হতে পাল্লা দেয়া, তারপর হিংসা, এরপর ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃতপ্রায় জীবন নিয়ে চলতে শেখায়। নিজের মতো যে বাঁচা যায়, আমি যা, তা-ও যে একরকম ঠিক, এটা ভুলিয়ে দেয়। আমাকে ভাগ করে দেয় হাজারের মাঝে। এখানে আমি আমাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত। কেন? আমি কি একটা আমি নই? নাই – বা লোকে আমার মতো হতে চাইলো। আমি শুধু আমার মতো – এতে কি ক্ষতি ছিল?

Writer: মোঃ নাহিদ মাহমুদ

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply