In three words I can sum up everything I’ve learned about life: it goes on.

— Robert Frost

অন রাইটিং : এ মেমোয়ার অফ দ্য ক্রাফট স্টিফেন কিং

কাহিনিসংক্ষেপ:
ঔপন্যাসিক স্টিফেন কিংয়ের ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থন এবং নতুন লেখকদের জন্য দিকনির্দেশনার চমৎকার মিশেলে রচিত সুখপাঠ্য একটি বই ‘‘অন রাইটিং: এ মেমোয়ার অফ দ্য ক্রাফট’ । বইটিতে লেখক প্রত্যক্ষ কৌশলগত উপদেশের পরিবর্তে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সাহিত্য রচনার জন্য প্রয়োজনীয় কলাকৌশল সম্পর্কে নবীন সাহিত্যিকদের অবহিত করতে চেয়েছেন। স্টিফেন কিং বইটিকে পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ে নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা এগিয়েছে। প্রথম অধ্যায়টির নাম ‘সিভি’ যা মূলত আত্মজৈবনিক , দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ‘সাহিত্যের সংজ্ঞা’ যেখানে কিং সাহিত্য রচনাকে পর্যাপ্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পাঠককে উৎসাহিত করেছেন, তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যয়ের শিরোনাম যথাক্রমে ‘কলাকৌশল’ এবং ‘কিভাবে লিখতে হয়’ । এই দুই অধ্যায় জুড়ে কিং ইংরেজি ভাষার প্রয়োগ এবং সাহিত্য রচনার বিভিন্ন আঙ্গিকের প্রতি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। বইটি শেষ হয়েছে পঞ্চম অধ্যায় ‘যাপিত জীবনে’ লেখকের ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুর কাছাকাছি যাবার অভিজ্ঞতার বয়ানের মধ্যে দিয়ে।
অন রাইটিং শুরু হয়েছে লেখকের শৈশবের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। অন্যান্য স্মৃতিকথার মত কিং নিজের জীবনের সকল ছোটখাটো এবং অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার ঝাঁপি খুলে বসেননি। শুরুতেই আমরা পাই তার সহজ স্বীকারোক্তি – ছেলেবেলার বেশ খানিকটা অংশ তিনি স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না। তিনি তাই একটানা গল্প বলে যাবার চেষ্টা করেননি। শুরু করেছেন আড়াই বছর বয়সে এক শিশুসুলভ বোকামির গল্প দিয়ে, এগিয়েছেন তার মা এবং ভাই ডেভিডের সাথে সম্পর্কের রসায়ন ধরে এবং স্মৃতির বাক্স ঘেঁটে তিনি এমন কিছু সময়, ঘটনা এবং মুহূর্তের কথা আমাদের কাছে তুলে ধরেন যেখান থেকে ছোট্ট স্টিভির ‘কিং অফ হরর’ স্টিফেন কিং হয়ে ওঠার গল্পটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই অধ্যায়ে আমরা লেখককে আন্তরিকভাবে কাছে পাই। গল্প যত আগাতে থাকে লেখক তত আমাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিং তার স্বভাবজাত রসবোধের সাথে বর্ণনা করে গেছেন তার অভাব ক্লিষ্ট শৈশবের বিভিন্ন ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী। তার প্রথম লেখার চেষ্টা, ভাই ডেভিডের সাথে মিলে নিজেদের সংবাদপত্র বের করা, ষোল বছরে পৌঁছাবার আগেই বিভিন্ন ম্যাগাজিনে নিজের লেখা ছাপানোর চেষ্টা এ সমস্ত কিছুই কথাসাহিত্যের প্রতি তার তীব্র অনুরাগের পাশাপাশি এটাও স্পষ্ট করে তোলে যে স্টিফেন কিং লেখার মাধ্যমে দারিদ্রকে পরাজিত করার চেষ্টা করে গেছেন প্রতিনিয়ত।

কিং খুব ছোটবেলা থেকেই ভৌতিক সিনেমার প্রতি নিজের প্রবল আকর্ষণের কথা জানিয়েছেন পাঠককে। যে সিনেমাই তিনি দেখতেন তার গল্পটা বাসায় এসে নিজের মতো করে লেখার চেষ্টা করতেন স্টিফেন কিং। তার বর্ণনা থেকে খুব সহজেই প্রতীয়মান হয় যে তিনি কী দেখছেন তা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল না তার কাছে। তিনি লিখতে পারছেন এটাই ছিল তার কাছে এক ধরণের সাফল্য। লেখালিখি করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ কিন্তু কিং লিখতে ভালোবাসতেন। লেখালিখির প্রতি তার ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে লিসবন উইকলি এন্টারপ্রাইজে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করাকালীন অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বয়ান। তিনি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন লিসবন উইকলি এন্টারপ্রাইজের সম্পাদক জন গোল্ডের প্রতি। স্টিফেন কিংয়ের মতে জন গোল্ড মাত্র দশ মিনিটে তাকে যেভাবে সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাহুল্যকে পরিত্যাগ করতে শিখিয়েছেন তা কোন স্কুল বা ক্লাস তাকে শেখাতে পারেনি। আত্মজীবনীর বাকি অংশে কিং লিখেছেন তার প্রেমের গল্প – কিভাবে স্ত্রী টাবিথার সাথে তার পরিচয় হলো, কিভাবে তারা নিজেদের যৌথজীবন শুরু করলেন, তাদের সংগ্রামমুখর কিন্তু ভালোবাসাপূর্ণ দিনগুলির চমৎকার বয়ান। অন রাইটিংয়ে স্টিফেন কিং প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন তার মদ্যপান এবং মাদকাসক্তির মতো কুঅভ্যাসের কথা।

অন রাইটিংয়ের পরবর্তী তিনটি অধ্যায়ে কিং আলাপ করেছেন কৌশলী লেখকের লেখার সরঞ্জাম, পদ্ধতি, ভাষাশৈলী এবং রচনাসৌষ্ঠব নিয়ে। স্টিফেন কিং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন পড়া এবং লেখার অভ্যাস তৈরি করার ওপর। কিংয়ের মতে, সফল সাহিত্যিক হবার জন্য প্রতিনিয়ত সাহিত্যচর্চা করে যাবার কোন বিকল্প নেই। লেখক বলেন, গল্প বলার ক্ষমতা সবার মধ্যেই সহজাতভাবে নিহিত। এই ক্ষমতাকে ঘষা মাজা করে সাহিত্য রচনায় রূপান্তর করতে দরকার অনুশীলন এবং পরিশীলন। স্টিফেন কিং নবীন লেখকদের উৎসাহিত করেছেন লেখার মাধ্যমে লেখক কী বলতে তা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে। তিনি কোন আইডিয়া ছাড়া লিখতে বসতে নিরুৎসাহিত করেন। অন রাইটিংয়ে লেখক কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে ভাববাচ্যে গল্প বলাকে পরিপূর্ণভাবে পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ না হলে লেখা মানসম্মত হবে না একথা মনে করিয়ে দেবার পাশাপাশি লেখক বাহুল্য এবং অতিশয়োক্তি পরিহারের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সাবধান থাকার উপদেশ দিয়েছেন নবীন লেখকদের। সহজপাঠ্য করার জন্য স্টিফেন কিং একটানা না লিখে জায়গামতো প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করার উপরে জোর দিয়েছেন।

স্টিফেন কিং সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে লেখকের সততার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। লেখকের মতে ভালো কথাসাহিত্য খুব সহজ এবং সাধারণ স্তম্ভের উপর নির্মিত হয় – সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার, নির্ভুল ব্যকরণ এবং গল্প বলার মৌলিক ঢং। এই তিনটি প্রাথমিক বিষয় আয়ত্ত হয়ে গেলে আসে সম্পাদনার গুরুত্ব, বিভিন্ন টেকনিক প্রয়োগ করে লেখার মান উন্নয়নের প্রয়াস। একজন সাধারণ মানের সাহিত্যিককে প্রতিভাবান লেখকে পরিণত করা কিংবা একজন ভালো মানের সাহিত্যিকের যুগোত্তীর্ণ লেখকে পর্যবসিত হওয়া অসম্ভব হলেও সাহিত্যের প্রতি তীব্র ভালোবাসা থাকলে কঠোর পরিশ্রম এবং যথোপযুক্ত পরামর্শের মাধ্যমে একজন সাধারণ লেখককেও ভালো সাহিত্যিকে পরিণত করা যায় বলে স্টিফেন কিং মনে করেন।

অন রাইটিং : এ মেমোয়ার অফ দ্য ক্রাফট বইটিতে লেখক বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেন যে সাহিত্য রচনা একটি প্রবল শ্রমসাধ্য কাজ। কিং বলেন, একনিষ্ঠভাবে পরিশ্রম করার প্রস্তুতি না থাকলে কারো লেখালিখির কথা ভাবা উচিৎ না। দীর্ঘসূত্রিতাকে স্টিফেন কিং সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক বলে মনে করেন। তার মতে একটা লেখা যত বড়ই হোক না কেন, লেখার প্রথম খসড়া লিখতে কখনোই তিন মাসের বেশি সময় নেয়া ঠিক না। ছোটগল্প বা উপন্যাসের ক্ষেত্রে লেখাবিন্যাসকে কিং তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন – মূল গল্প, গল্পের বর্ণনা এবং সংলাপ। কিং নিজে চরিত্রের বাহ্যিক বর্ণনায় বেশি সময়ক্ষেপণ করতে পছন্দ করেন না। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে যথোপযোগী সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রের গভীরতাকে ফুটিয়ে তুলতে পারাকে কিং ভালো লেখার অনুষঙ্গ বলে মনে করেন।

স্টিফেন কিং আরেকটি যে বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হচ্ছে লেখার পরিবেশ। তার মতে, স্থান-কাল নির্বিশেষে যে কোন জায়গায় বই পড়া যায় কিন্তু সাহিত্য রচনার জন্য নিজের গভীরে ঢোকা জরুরী। এজন্য তিনি নবীন লেখকদের পরামর্শ দিয়েছেন লেখার জন্য এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে যেখানে সে নিজে গভীরভাবে চিন্তা করার, নিজের পারিপার্শ্বিক থেকে নিজেকে মুক্ত করে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ থাকে । স্টিফেন কিং নিজের স্টাডিতে তার বিশাল টেবিলে বসে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কিন্তু এটা একেকজন লেখকের ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে। যাই হোক না কেন, সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে স্থিরচিত্তে ভাবতে পারার মতো পরিবেশ তৈরির কোন বিকল্প নেই।

যে কোন নবীন লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় যে প্রশ্ন তা হচ্ছে ‘আমি কী নিয়ে লিখবো?’ এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে স্টিফেন কিংয়ের উত্তর খুবই সরল। তার মতে লেখক নিজে বিশ্বাস করেন এমন যে কোন কিছু নিয়েই লেখা সম্ভব। নিজের লেখার উপর লেখকের ভরসা থাকা ভালো লেখার অন্যতম শর্ত বলে কিং মনে করেন। সাহিত্যের প্রতি লেখকের ভালোবাসা, সাহিত্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ এবং চারিত্রিক সততা যে কোন লেখার উৎকর্ষ সাধনে সক্ষম বলে কিং দাবী করেছেন। লেখক বলেন সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে বড় শিক্ষক আর কেউ নেই। নিজের ঘরে বসে বই পড়ার মাধ্যমে লেখালিখির ব্যাপারে আপনি যা শিখবেন এর চেয়ে ভালোভাবে কি আপনাকে শেখাতে পারবে না।

স্টিফেন কিংয়ের মতে জনপ্রিয় হওয়া কিংবা অর্থোপার্জন বা বিখ্যাত মানুষের সাহচর্যে আসা কখনোই সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্য অবশ্যই নিজের লেখার মাধ্যমে পাঠকের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখা এবং একই সাথে নিজের জীবন ও দর্শনকে সমৃদ্ধ করা। কিন্তু তারচেয়েও বড় সত্য হচ্ছে লেখক লেখেন কারণ লিখতে তার ভালো লাগে, লেখা তাকে পরিপূর্ণ করে। এই পরিপূর্ণতার আনন্দের চেয়ে মোহনীয় এ পৃথিবীতে কিছু নেই। সাহিত্যের সকল মনোযোগী পাঠককে নিজের আনন্দে লেখার আহ্বান জানিয়ে স্টিফেন কিং বইটি শেষ করেছেন।

Quotes

  1. “I remember an immense feeling of possibility at the idea, as if I had been ushered into a vast building filled with closed doors and had been given leave to open any I liked.”
  2. “By 1985 I had added drug addiction to my alcohol problem, yet I continued to function, as a good many substance abusers do, on a marginally competent level. I was terrified not to; by then I had no idea of how to live any other life. I hid the drugs I was taking as well as I could, both out of terror—what would happen to me without dope? I had forgotten the trick of being straight—and out of shame.”
  3. “Write with the door closed, rewrite with the door open. Your stuff starts out being just for you, in other words, but then it goes out. Once you know what the story is and get it right—as right as you can, anyway—it belongs to anyone who wants to read it. Or criticize it.”
  4. “[Writing] starts with this: put your desk in the corner, and every time you sit down there to write, remind yourself why it isn’t in the middle of the room. Life isn’t a support-system for art. It’s the other way around.”
  5. “Books are a uniquely portable magic.”
  6. “Writing is a lonely job. Having someone who believes in you makes a lot of difference. They don’t have to make speeches. Just believing is usually enough.”
  7. “One of the really bad things you can do to your writing is to dress up the vocabulary, looking for long words because you’re maybe a little bit ashamed of your short ones. This is like dressing up a household pet in evening clothes.”
  8. “The scariest moment is always just before you start.”
  9. “The pet is embarrassed and the person who committed this act of premeditated cuteness should be even more embarrassed.”
  10. “Remember that the basic rule of vocabulary is use the first word that comes to your mind, if it is appropriate and colorful.”
  11. “Nouns and verbs are the two indispensable parts of writing. Without one of each, no group of words can be a sentence, since a sentence is, by definition, a group of words containing a subject (noun) and a predicate (verb); these strings of words begin with a capital letter, end with a period, and combine to make a complete thought which starts in the writer’s head and then leaps to the reader’s.”
  12. “If you hesitate and cogitate, you will come up with another word – of course you will, there’s always another word – but it probably won’t be as good as your first one, or as close to what you really mean.”
  13. “Take any noun, put it with any verb, and you have a sentence. It never fails. Rocks explode. Jane transmits. Mountains float.”
  14. “The simplicity of noun-verb construction is useful – at the very least it can provide a safety net for your writing.”
  15. “Verbs come in two types, active and passive. With an active verb, the subject of the sentence is doing something. With a passive verb, something is being done to the subject of the sentence. The subject is just letting it happen. You should avoid the passive tense.”
  16. “I insist that you use the adverb in dialogue attribution only in the rarest and most special of occasions … and not even then, if you can avoid it.”
  17. “If you want to be a writer, you must do two things above all others: read a lot and write a lot. There’s no way around these two things that I’m aware of, no shortcut.”
  18. “Every book you pick up has its own lesson or lessons, and quite often the bad books have more to teach than the good ones.”
  19. “What you need to remember is that there’s a difference between lecturing about what you know and using it to enrich the story. The latter is good. The former is not.”
  20. “In my view, stories and novels consist of three parts: narration, which moves the story from point A to point B and finally to point Z; description, which creates a sensory reality for the reader; and dialogue, which brings characters to life through their speech.”
  21. “Description begins in the writer’s imagination, but should finish in the reader’s.”
  22. “Good fiction always begins with story and progresses to theme; it almost never begins with theme and progresses to story.”
  23. “Everything I’ve said about dialogue applies to building characters in fiction. The job boils down to two things: paying attention to how the real people around you behave and then telling the truth about what you see.”
  24. “You learn best by reading a lot and writing a lot, and the most valuable lessons of all are the ones you teach yourself.”
  25. “Writing isn’t about making money, getting famous, getting dates, getting laid, or making friends. In the end, it’s about enriching the lives of those who will read your work, and enriching your own life, as well. It’s about getting up, getting well, and getting over. Getting happy, okay? Getting happy.”

চরিত্র বিশ্লেষণঃ

স্টিফেন কিং : স্টিফেন কিং একই সাথে তার নিজের আখ্যানের নায়ক এবং খলনায়ক । বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে স্মৃতিচারণ করবার সময় কিং নিজেকে নিয়ে রসিকতা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। শৈশবের এমন সব স্মৃতির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যা একই সাথে মজার এবং বেদনাদায়ক, কখনো কখনো কিছুটা বিব্রতকরও বটে। এ সকল ঘটনার মধ্যে দিয়ে তার যে চরিত্র পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে সেখানে তাকে কিছুটা অন্যমনস্ক, প্রাণবন্ত, মেধাবী এবং কৌতুহলী মানুষ বলে মনে হয় যাকে একটা কঠিন শৈশব দেখতে হয়েছে । পরবর্তীকালে এক দিকে তিনি লেখক হিসেবে যুগান্তকারী সফলতা লাভ করেন , অন্যদিকে মদ্যপান ও মাদকাসক্তির সাথে তার কঠোর সংগ্রাম তার জীবনকে বন্ধুর করে তুলেছে সিংহভাগ সময়জুড়েই।

নেলি রুথ পিলসবুরি কিংঃ বইটির প্রথম অংশে স্টিফেনের মা নেলি রুথ পিলসবুরি কিংকে স্মৃতিকথার প্রধান চরিত্র বলে মনে হয়। খুব অল্প কিছু ঘটনা আর চিত্রের মধ্যে দিয়েই কিং তার সংবেদনশীল, অভাবে জর্জরিত অথচ স্বাধীনচেতা মায়ের চরিত্র চমৎকারভাবে এঁকেছেন। কিংয়ের লেখনীর উপর নেলির ভরসা তার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করেছে ছেলেবেলা থেকেই যে কারণে অসংখ্য ব্যর্থতার পরেও কিং কখনোই হাল ছেড়ে দেননি। ছোট্ট স্টিভিকে আজকের স্টিফেন কিং গড়ে তোলার পিছনে তার মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য ।

ডেভিড কিংঃ কিং তার সহজাত রসবোধ এবং একাগ্রতার সাথে তার ভাই ডেভিড কিংয়ের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। কিং তাকে আখ্যায়িত করেছেন একজন দারুণ বড় ভাই হিসেবে। ছেলেবেলার স্মৃতিচারণে ডেভিড খুবই মেধাবী এবং দুষ্টু বালক হিসেবে মনে হয় যে তার বহুবিধ এডভেঞ্চারে ছোট ভাই স্টিভকে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে বিপদে ফেলতে পারদর্শী। ডেভিড স্টিভের শৈশবকে রঙিন করে তুলেছেন বহুলাংশে তা বলা বাহুল্য।

ট্যাবিথা কিংঃ স্টিফেন কিংয়ের জীবনকে সমৃদ্ধ করে তুলতে সবচেয়ে বেশি অবদান যে নারীর তিনি হলেন ট্যাবিথা কিং – স্টিফেনের দৃঢ়চেতা, সংবেদনশীল, প্রতিভাবান স্ত্রী । স্টিফেন এবং ট্যাবির পরিচয় ঘটে কলেজে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ট্যাবির আকুন্ঠ সহযোগিতা ব্যতীত স্টিফেনের পক্ষে সংসার এবং চাকরি সামলে সাহিত্য চর্চা অব্যাহত রাখা সম্ভব হত না বলেই প্রতীয়মান হয়। ট্যাবিই প্রথম স্টিফেনের উপন্যাস ‘ক্যারি’র খসড়া পড়ে উপন্যাসটির প্রবল সম্ভাবনা সম্পর্কে স্টিফেনকে অবহিত করেন এবং এই উপন্যাসটি স্টিফেন কিংয়ের লেখক জীবনের প্রথম ‘হিট’ উপন্যাসে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে স্টিফেনের প্রায় জীবনঘাতি সড়ক দুর্ঘটনার পরে ট্যাবিই স্টিফেনকে মাদকাসক্তির ভয়াল জগত থেকে ফিরে আসতে বাধ্য করেন।

ব্যাক্তিগত মতামত : স্টিফেন কিংয়ের স্মৃতিকথার অংশবিশেষ পড়ার সৌভাগ্য, সঙ্গে লেখালেখি নিয়ে নির্দেশিকা—এ দুইয়ের সংমিশ্রণে ‘অন রাইটিং’ বইটি পড়ে ফেলা, যেকোনো লেখকের জন্যই বাধ্যতামূলক। তিনি তত্ত্বের এবং তথ্যের প্রাচুর্যের বদলে নিজের অভিজ্ঞতার বয়ানে লেখালিখি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিধায় বইটি অহেতুক জটিল হয়ে ওঠেনি। সাহিত্য রচনার বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে জানাশোনার সাথে সাথে এ লেখক স্টিফেন কিংয়ের সাথে এক ধরণের আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে অন রাইটিংঃ এ মেমোয়ার অফ দ্য ক্রাফট বইটির মাধ্যমে। শিল্পের প্রতি লেখকের ভালোবাসা পাঠককে আরও একবার সাহিত্যের প্রেমে পড়তে বাধ্য করে । নবীন লেখক কিংবা সাহিত্যানুরাগী সকলের কাছেই বইটির আবেদন অফুরন্ত। লেখালিখির সৃষ্টিশীল যাত্রার প্রারম্ভে অন রাইটিংঃ এ মেমোয়ার অফ দ্য ক্রাফট হতে পারে এক চমৎকার সঙ্গী ।

Writer: Sumaiya Nasrin Sumu

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply