If you find no one to support you on the spiritual path, walk alone.

— Buddha

চট্টগ্রাম থেকে নাফাখুম, আমিয়াখুম, ভেলাখুম গল্পগাথা(৩ রাত ৪ দিন)

আমরা ছিলাম ৫ জন। ১১ জানুয়ারি সকাল ৬ঃ৩০ এর বাসে উঠি বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে। সকাল ৯ টায় বান্দরবান পৌছায়। নাস্তা করে গাইডকে ফোন করি। আমাদের গাইড ছিলেন রাফায়েল দাদা। ভাগ্যক্রমে দাদা আগের দিন রাতে বান্দরবান আসেন এবং আমাদের জন্য চাঁদের গাড়ি ঠিক করে রাখেন। ওয়ারকিং ডে হওয়াতে এবং দাদার পরিচিত হওয়াতে অনেক কমে পেয়ে যায়। দাদাসহ সকাল ১০ টায় বান্দরবান থেকে রওনা দিয়ে ১.৩০ এ থানচি পৌছায়। মাঝপথে আমাদের ২ বার বিজিবি চেকিং হয়েছিল। থানচিতে দুপুরের খাবার সেরে নিই। কিছু শুকনো খাবার, ট্রেকিং স্যান্ডেল এবং লাইফ জ্যাকেট নিয়ে ফেলি এবং বিজিবি পারমিশন নিয়ে নিই ।আমাদের ২ কপি NID ফটোকপি লেগেছিল (১-২ কপি এক্সট্রা নিতে পারেন)।দাদা আগেই আমাদের জন্য বোট ঠিক করে রাখেন। ৩.৩০ এ বোটে উঠে রেমাক্রির উদ্দেশ্য রওনা দিই। রেমাক্রি যেতে হয় সাঙ্গু হয়ে।সাঙ্গু দিয়ে যাওয়ার পথে পডন্ত বিকেলে তিন্দু, বড় পাথর আপনার সব ক্লান্তি দূর করে দিবে। It’s a treat to the eyes❤️। ৫ঃ১৫ এ রেমাক্রি পৌছায়। অনেকে এখনেই লাইফ জ্যাকেট রেখে যান কিন্তু আমরা নাফাখুমে গোসল করব তাই সাথে নিয়ে যায়। রেমাক্রি থেকে শুরু হয় আমাদের রাতের ট্রেকিং। রাত ৮ টায় আমরা নাফাখুম পাড়ায় পৌছায়। নাফাখুম পাড়া নাফাখুমের একদম পাশেই। এখানেই আমাদের থাকার ব্যাবস্হা করা হয়। সেদিন রাতে নাফাখুমের শব্দেই মন ভরিয়ে নিতে হয়। পরদিন ভোরে উঠে যায় নাফাখুম দেখার জন্য। ভোরের নাফাখুম খুবই সুন্দর। অনেকে পদ্মঝিরি হয়ে সরাসরি আমিয়াখুম যায়। এতে নাফাখুমের সৌন্দর্য দেখা হয় না এবং আমিয়াখুম দেখে নাফাখুম ও দেখতে ভালো লাগেনা। আমি সাজেস্ট করব সকালের নাফাখুম দেখার জন্য❤️।নাফাখুমে দুপুরের দিকে আমরা গোসল সেরে নিই।খুমের ঠান্ডা পানি যেন শরীরের ক্লান্তির ওষুধ হিসেবে কাজ করেছিলো। খুমে গোসল না করলে অপরিপূর্ণতা থেকে যায়। সাতার না পারলেও সমস্যা নেই যদি লাইফ জ্যাকেট থাকে। আমাদের ১ ফ্রেন্ড সাতার না জানার পরেও আমাদের সাথে নেমেছিল। ১.৩০ এর দিকে আমরা রওনা দিই জিন্নাহপাড়ার উদ্দেশ্য। ৫ টায় আমরা জিন্নাহপাড়ায় পৌছায়। আমরা পথে অনেক থেমেছিলাম বলে আমাদের সময় বেশি লেগেছিলো নাহয় ২ ঘন্টা লাগে। এখানেই আমরা রাতে থাকি। রাফায়েল দাদা আমাদের জন্য বারবিকিউ এর ব্যাবস্হা করেছিলেন। দাদার বারবিকিউ খুবই মজার ছিল। দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ি পরেরদিন দেবতাপাহাড় জয়ের জন্য।সকাল ৯ টায় লোকাল গাইড এবং দাদাকে সাথে নিয়ে জিন্নাহপাড়া থেকে রওনা দেই। ঘন্টাখানেক পরে দেবতাপাহাড় পৌছায়। ৯০° এর খাড়া হলো দেবতাপাহাড়। যাওয়ার আগে অনেকেই দেবতাপাহাড় নিয়ে অনেক ভয়ের কথা বলেছিলেন। একারনে আমাদের একটা ফ্রেন্ড নামার সময় খুব ভয় পেয়েছিলো। তার পা কাপছিলো আগে থেকেই শুনা ভয়ের কারনে। দেবতাপাহাড় খাড়া হলেও এতে খাজ কাটা রয়েছে যার কারনে আপনি যদি বসে নামেন তাহলে খুব বেশি কষ্ট হয় না। কারও হাইট ফোবিয়া থাকলেও সমস্যা হবে বলে মনে করিনা( যদিও এটা vary করে) কারন আমার নিজেরও হাইট ফোবিয়া আছে। রাফায়েল দাদা আমাদের ফ্রেন্ডকে ধরে ধরে নামিয়েছিলো। ৫০ মিনিট পরে নেমে যেন স্বস্তির নিস্বাস ফেলি। আমরা প্রথমে ভেলাখুম গিয়েছিলাম নেমে। ভেলাখুম অনেক সুন্দর। ভেলাখুমের উপরে উঠলেই দেখতে পারবেন বিশাল বিশাল পাথর। ভেলাখুম দেখা শেষে চলে আসি কাঙ্খিত আমিয়াখুম দেখতে। আমিয়াখুম নাফাখুমের মতই একই ধাচের( bigger version of nafakhum)।আমিয়াখুম ও অনেক সুন্দর। আমিয়াখুমের পাশেই আমরা দুপুরের খাবার করেছিলাম। দাদা আমাদের জন্য খিচুড়ি এবং ডিম নিয়েছিলো। খুম এবং খিচুড়ি যেনো পারফেক্ট কম্বিনেশন ❤️। আমিয়াখুম দেখা শেষে আমরা ব্যাক করি। আসার পথে নিকোলাস পাড়ায় উঠে বাসায় কনটেক্ট করি। ৫ টায় জিন্নাহপাড়ায় পৌছায় এবং সেদিন রাতে এখানে থাকি। পরেরদিন সকাল ৮ টায় রওনা দিয়ে ১২.৪৫ এ রেমাক্রি পৌছায়। বোটে করে ৩ঃ৩০ এ থানচি পৌছায়। দাদা আমাদের গাড়ি ঠিক করে দিয়েছিলেন। ৬ টায় আমরা বান্দারবান পৌছায় এবং ৬ঃ৩০ এর বাসে চট্টগ্রাম রওনা দেই। রাতে খুব ঠান্ডা পড়ে তাই অবশ্যই গরম কাপড় নিয়ে যাবেন। নাফাখুম পাড়ায় তোষক থাকলেও জিন্নাহ পাড়ায় কোনো তোষক ছিলো না। তারা যে কম্বল দেয় ওটা খুবই পাতলা। ব্যাগ ভারি হলেও খুব বেশি সমস্যা নেই কারন নাফাখুম পর্যন্ত ইজি ট্রেকিং এবং আমিয়াখুম যাওয়ার সময় সব পাড়ায় রেখে যেতে হয়। খরচঃচট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান -১১০ গাইড+লোকাল গাইড + ভেলা খরচ(গাইডের থাকা খাবার আমাদের)-৪৮০০চাঁদের গাড়ি যাওয়া -২০০০চাঁদের গাড়ি আসা( আমাদের সাথে আরও ৩ জন add হয়েছিল) -১৫০০বোট ভাড়া যাওয়া-আসা(সর্বোচ্চ ৫ জন)-৪৫০০প্রতি রাত থাকা -১৫০লাইফ জ্যাকেট(প্রতিদিন)-৫০খাওয়াটা নিজেদের উপর নিজেরা যেমন পছন্দ করেন।রাফায়েল দাদার নাম্বার-01866650914(উনার ব্যাবহার ছিল অমায়িক❤️)আমাদের জনপ্রতি ৫১০০ লেগেছে। যেখানে যাবেন পরিবেশ সুন্দর রাখবেন এবং ময়লা ফেলবেন না

Ayman Iktidar(Travelers of Bangladesh (ToB))

What’s your Reaction?
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply