অতীতকে প্রাধান্য দিও না, ভবিষ্যত নিয়ে দিবাস্বপ্নও দেখবে না। তার চেয়ে বরং বর্তমান মুহূর্ত নিয়ে ভাবো।

— গৌতম বুদ্ধ

💝নিঃস্বার্থ ভালোবাসা💝

(সৃষ্টি আর সবুজ স্কুলের সময় থেকে বন্ধু, এখন তারা অনার্স ৩য় বর্ষ পড়ছে, সৃষ্টির রাতুল নামের একটা ছেলেকে কলেজে থেকে রিলেশন করে..
হঠাৎ একদিন:-)
সৃষ্টি: কিরে কেমন আসছি??
সবুজ: ভালো, তুই?
সৃষ্টি: আমিও ভালো, কিন্তু একটু টেনশনে আছিরে??
সবুজ: কেন, কী হলো আবার?
সৃষ্টি: রাতুলের কাল জন্মদিন, আর ও আমাকে নিয়ে ওর বন্ধুর বাড়িতে যাইতে চাচ্ছে.. এইখানে ওরা পাটি দিবে!!
সবুজ: পাটি হলে সমস্যা কী যা, কিন্তু অন্য কিছু হলে সমস্যা..
সৃষ্টি: অন্য কিছু হলে কী সমস্যা??
সবুজ: কিছু না, যেটা ভালো লাগে কর, বুঝে-শুনে কর..
(এক সপ্তাহ পরে, তাদের মাঝে আবার দেখা, এই কয় দিনে তেমন কথা হয়নি তাদের মাঝে)
সবুজ: কিরে ভুলে গেলি?? কথা বলিস না কেন জানি!!
সৃষ্টি: আর এ না, রাতুলের জন্ম দিনের এক দিন পর, ও আমাকে নিয়ে জাফলং ঘুরতে গেছি, গতকাল আসলাম.. তাই কারো সাথে তেমন কথা হয় নাই..
সবুজ: বাহ! ভালোতো, সাথে কে কে গেছে??
সৃষ্টি: সাথে আবার কে যাবে, কেউ না..
সবুজ: তোকে আমি অন্য মেয়েদের থেকে আলাদা ভেবেছিলাম.. কিন্তু তুই এটা করতে পারলি?? একটা মেয়ে হয়ে একটা ছেলে সাথে তিন দিন, থাকতে পারলি, কীভাবে??
সৃষ্টি: দেখ, জ্ঞান দিবি না, তুই এত নের-মান্ডি লোক জানতাম না তো, ওকে আমি ভালোবাসি, এক মাস পর ও আমাকে ওর বাড়ির লোকের সাথে আলাপ করাবে..
সবুজ: বিয়ের পরে সব করতি, বিয়ের আগে সব হলে, বিয়ে করার দরকার কী??
সৃষ্টি: তোর চিন্তা ভাবনা এত নিচ, জানতাম না..আজকের পর আর কথা বলিস না..
(সেদিন তাদের মাঝে অনেক ঝগড়া হলো,, এই ভাবে মাস তিনেক পর সবুজ সৃষ্টিকে ফোন করলো)
সুবজ: হ্যলো! কিরে কেমন আছিস?? কথায় এখন তুই??
সৃষ্টি: কান্না কান্না গলায়, হসপিটালে.. এতদিন কোথায় ছিলি?? তোকে কত হাজার বার ফোন দিছি, তোর ফোন অফ ছিলো..
সবুজ: আমার ফোন হারিয়ে গেছে, আর কাজে অনেক বিজি ছিলাম, তুই এখন কলেজ মাঠে আয়..
(কিছু খন পর সৃষ্টি কলেজ আসলো, হাসপাতাল আর কলেজ পাশাপাশি, সৃষ্টিকে দেখে সবুজ বললো:-)
সবুজ: কী হইছে তোর??
সৃষ্টি: কাদঁতে কাদঁতে বললো, আমার পেটে বাচ্চা এসেছে, এটা নষ্ট করতে গেছিলাম..
সবুজ: মানে কী?? কী বলিস এসব, কবে হলো, আর বাচ্ছা মানে??
সৃষ্টি: রাতুলের সাথে যে জাফলং গেছিলাম, তার পর টেষ্ট করে দেখি, রিপোর্ট পজিটিভ..
রাতুলকে বিয়ে কথা বললে বলে, পরে বিয়ে করবো এখন না, বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলো..
সবুজ: এখনো ওর কথা শুনবি তুই??
সৃষ্টি: তা ছাড়া উপায় কী, এই বাচ্চাটা কি করে রাখবো, কী পরিচয় দিবো ওর, কীভাবে মুখ দেখাবো??
সবুজ: আমাকে বিয়ে করবি কী, আমি ওর জন্ম পরিচয় দিবো!
সৃষ্টি: না না! তা হয় না..
সবুজ: কেন হয় না, আমাকে বিয়ে করতে সমস্যা আছে কী তোর??
সৃষ্টি: সমস্যা নেই, কিন্তু তুই কেনো এত বড় ত্যাগ স্বীকার করবি, কেন নিজের জীবনটা নষ্ট করবি??
সবুজ: আমি নিজের জীবনটা নষ্ট করবো না, আমি তোকে অনেক দিন থেকে চিনি, আমি তোকে বিয়ে করলে সুখি হবো..
আমার জীবন নষ্ট হবে না, বরং তোর আর আমাদের বাচ্চা জীবন সাজিয়ে দিবো..
(তার পর তারা বিয়ে করলো, আজ ওদের বিয়ে ১০ বছর পূরণ হলো.. ওদের ৯ বছরের বাচ্চাটা “হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়েছে”.. সবুজ একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে “CO” পোস্টে কাজ করে, আর সৃষ্টি বাড়ির কাজ সমলায়..
আজ তারা অনেক সুখি)
বি দ্য: জীবনে অনেক বন্ধুর প্রয়োজন নেই, সত্যিকারের কয়েকটা বন্ধু যথেষ্ট জীবন সাজিয়ে দেয়ার জন্য..
@অনাসক্ত আমি

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave A Comment