You only live once, but if you do it right, once is enough.

— Mae West

ঘুমের প্রয়োজনীয়তা(Sleep requirements):

প্রতিদিনের কাজকর্মের ব্যস্ততার পর রাতে গভীর ও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত
ঘুমের প্রয়োজন হয়। রাতের ঘুম মানুষের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে। মানুষের পুরো দিনের ক্লান্তি শেষে যখন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর যখন
গভীরভাবে ঘুম আসে তখন পুরো দিনের ক্লান্তি শেষ হয়ে যায়। তাছাড়াও সব
মানুষের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্যও ঘুম অনেক প্রয়োজনীয়। রাতে ঘুম না হলে
বা কম ঘুমালে সকালে জেগে ওঠে সতেজতা অনুভব হয় না। গুম ঠিক মত না হলে
মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে এবং কম ঘুম আরও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে।
সকালে উঠে অনেকের অফিসের কাজ, অনেকের স্কুল, কলেজ ও গৃহিণীর অনেক কাজ
করতে হয়। তাছাড়াও অনেক কিছুরই চিন্তা কাজ করে মানুষের জীবনে, যার ফলে
অনেকেরই রাতে ঘুম হয় না। ঘুমানোর জন্য অনেকেই ঘুমের ঔষধ খেয়ে থাকে কিন্তু
ঔষধ খেয়ে যে ঘুম হয় তা গভরী ঘুম না যার ফলে শরীরে গভীর ঘুমের যে উপকারিতা
পাওয়া যেত তা পাওয়া যায় না। আর সঠিকভাবে ঘুম না হলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি
হয় ও অনেক রোগের উৎপত্তি ঘটে।
বয়স অনুযায়ী ঘুমের সময়ঃ
বয়স অনুসারে মানুষের ঘুমের সময় আলাদা।
 নবজাতকের জন্য প্রায় ১২-১৬ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
 ৩-৫ বছরের শিশুর জন্য প্রায় ১০-১৩ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
 ৬-১২ বছরের শিশুর জন্য ৯-১১ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
 ১২-১৮ বছরের শিশুর জন্য ৮-১০ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
 ১৮- উর্ধের বয়সের মানুষের জন্য ৬-৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।

ঘুমের প্রভাবঃ
আমাদের প্রতিদিন যেমন খাবারের প্রয়োজন হয় তেমনি ঘুমের ও প্রয়োজন আছে। ঘুম
ভালোভাবে হলে শরীর সুস্থ থাকে ও রোগ থেকে শরীর মুক্ত থাকে। ঘুম ঠিক মত হলে
যেমন অনেক প্রকার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তেমনি ঘুম ঠিক মত না হলে

শরীরে অনেক রোগের উৎপত্তি ঘটে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে হাতাশা দেখা
দেয় ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং এর ফলে রাতে অনিদ্রা
দেখা দেয়,শরীরে ক্লান্তি ভাব থেকে যায়। রাতের ঘুম মানুষের শরীরে বিভিন্ন কোষ
আবার নতুন করে গঠন করে ও শরীরের মাংসপেশির ক্ষয়-ক্ষতির মেরামত হয় ।
রাতের ঘুম মানুষের মস্তিষ্কের জন্যও অনেক প্রয়োজনীয়।রাতে শরীরের পর্যাপ্ত
বিশ্রামের পর শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
ঘুম না হওয়ার ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো হলোঃ

  1. কম ঘুম হলে শরীরে ক্লান্তি ভাব থেকে যায় ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
    বিষন্নতার ও উৎপত্তি ঘটে কম ঘুমের ফলে যা পরে ডিপ্রেশনের রূপ নিয়ে
    থাকে।কারন পুরো দিনের শরীরের ক্লান্তি ভাব ঘুমের ফলেই কাটিয়ে উটা যায়।
    ক্লান্তি দূর হলে মানুষ সতেজতা অনুভব করে যা মানুষের মস্তিষ্কের ও
    শরীরের জন্য অনেক উপকারি।
  2. ঘুম কম হলে তা মানুষের শরীরে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির একটি কারন হিসেবে দেখা
    যায়। তাই রাতে আমাদের শরীরের জন্য ঘুম প্রয়োজনীয়।
  3. রাতে গভীর ঘুমের অভাবে শরীরের মধ্যে রাতে যেসব কোষ গুলো নতুন করে গঠন
    করতে পারে না তার ফলে শরীরের কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব পড়ে।
  4. রাতে ঘুম কম হলে ত্বকের ক্ষতি হয়,চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে ও ত্বকের
    উজ্জ্বলতা কমতে থাকে। ত্বকের সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে থাকে। কারন রাতে
    ঘুমের সময়ই ত্বকের মেরামতের কাজ হয়ে থাকে ।
  5. রাতে ঘুমে সমস্যা হলে ও ঘুম কম হলে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে ও
    ডায়বেটিসের ঝুঁকি দেখা দেয়। রাতের ঘুম আমাদের শরীরের কোষ গুলোকে
    সক্রিয় রাখে ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
    কিন্তু ঘুম না হলে প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হয় তা শরীরের কার্যক্ষমতা
    কমিয়ে দেয়।
  6. রাতে কম ঘুমালে তা মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। রাতে
    ঘুম না হলে শরীরে রোগের উৎপত্তি ঘটে ও এমনই চলতে থাকলে শরীরের
    অনেক ক্ষতি হয় ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যা মানুষকে
    মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তাই আমাদের শরীরের জন্য ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের প্রতিদিন সঠিক
সময়ে ও পরিমিত পরিমাণে ঘুমানো উচিত।

Writer: মারজান আক্তার

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply