To live a pure unselfish life, one must count nothing as one’s own in the midst of abundance.

— Buddha

আন্তঃ সম্পর্কীয় যোগাযোগ : জটিলতা থেকে মুক্তি

আন্তঃ সম্পর্কীয় যোগাযোগ : জটিলতা থেকে মুক্তি

কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ক্ষত সিনেমার একটা সংলাপ দীর্ঘদিন ধরে ভাবায় আমাকে। যদি ভুল না করি সংলাপটা ছিলো, “সবাই একা থাকে কিন্তু একসাথে থাকার ভান করে।” এইজন্য মানুষকে পর্যাপ্ত একা থাকতে দেওয়া উচিত এবং একই সাথে একার টা একার বুঝতে দেওয়া উচিত যেহেতু সবাই একা থাকেই। সম্পর্ক এর ক্ষেত্রে কম গুরুত্ব, কম চাওয়া সমস্যা হলে বেশি গুরুত্ব, বেশি চাওয়া এবং নির্ভরশীলতা আরো বড় সমস্যা হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব এবং বেশি বুঝতে যাওয়া সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোর পরিবর্তে ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। বেশি নির্ভরতা পরে গিয়ে চলার পথে বাধা ও তৈরি করে। কারণ সম্পর্ক থাকেনা। সমাজ, সংস্কার মেনে থাকলেও যেখান থেকে শুরু হয় সেখানে থাকেনা।

সম্পর্ক মোট কথায় একটা জার্নি যার কোন গন্তব্য নেই। এই গন্তব্যহীনতার জার্নিতে আপনি অনেক দূর চলেও যেতে পারেন আবার কিছুদূর যাওয়ার পর পথ বদলে যাত্রা থামিয়ে দু পথেও চলে যেতে পারেন দুজন। কোন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের এ তল্লাটে মানুষ সবচে বড় ভুল যেটা করেন সেটা হলো সম্পর্কের খাতিরে, টিকিয়ে রাখার তাগিদে নিজের স্বকীয়তার জায়গা বিসর্জন দিয়ে একজন অন্য জনের মত হয়ে ওঠেন। প্রচলিত সংস্কার এই হয়ে ওঠাকে সমর্থন করেন। কিন্তু সংস্কারের সব বিষয় যে ভালো নয় আপনার চিন্তা করার শক্তি সামর্থ্য থাকলে আপনিও বুঝবেন। সুসম্পর্ক বলে যে টার্ম আছে তার জন্য প্রচণ্ড আর্গুমেন্ট, তর্ক বিতর্ক, দ্বিমত, দর্শনগত মতভেদ কোন অসুবিধা তৈরি করেনা। আবার আপনার সাথে কারো ভালো সম্পর্ক থাকলে যে আপনি তাকে খারাপ বলতে পারবেন না, তার বিপক্ষে কোথাও কথা বলতে পারবেন এই ধারণা ডেল কার্নেগী কিংবা লুৎফর রহমানের বইয়ের গার্বেজ তত্ত্ব থেকে আসছে। প্রকৃতিগতভাবে মানুষ নিন্দুক সেটা প্রিয়জনের ক্ষেত্রেও যা অপ্রিয় জনের ক্ষেত্রেও তা। শুধু আপনি আপনাদের ভেতরকার যে তথ্য নিতান্তই আপনাদের তা প্রকাশ না করলেই চলে। তারপরও যদি এই নিন্দা কিংবা সমালোচনা নিয়ে আপনার আপত্তি তৈরি হয় তবে সুস্থভাবে আপনি তাকে এড়িয়ে যাবেন এর জন্য আপনাকে নতুন করে বিশ্বযুদ্ধ বাঁধতে হবে না তিক্ততা বানাতেও হবেনা।

সম্পর্ক নিয়ে এই তল্লাটে আরো ভুল করা হয় একজনের ওপর আরেকজনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে, বেশি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতা নষ্ট করা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে আমাকে একটু নিজের জীবনের কথা বলতেই হবে। আমার বড় মামা আলমগীর কবির যিনি আমাকে হাতে হাত ধরে হাটতে শিখিয়েছেন যিনি এই বিশ বছরের আমাকে এখনো সাথে থাকলে রাস্তা পার করাতে হাত ধরেন তিনিও আমাকে বেশ কয়েকবছর যাবত শেখান কিভাবে নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করতে হয়। কিভাবে প্রতিকূল সময় সর্ভাবাইব করতে হয় সেটা শেখার সুযোগ দেন। মধ্যে আমার খারাপ থাকা বা ভালো থাকার কথা শোনেন, দ্বিমত হলে দ্বিমত করেন, একমত হলে একমত পোষণ করেন কিন্তু আমি ভুল কিনা সঠিক সেটা বুঝতে দেন আমাকেই। এ জন্য আমি বলি যে আমার সবচে কাছের বন্ধু এখনো আমার বড় মামা। কিন্তু উনি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেই এই সম্পর্কে জেনারেশন গ্যাপ নামের এক বিরাট বেড়াজাল তৈরি হতো। একই ভাবে বন্ধু, প্রেমিক কিংবা বাবা মায়েরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এই সমস্যার সূত্রপাত হবেই।

তাই যে যেমন তাকে সেভাবে তার পথ বুঝতে দিন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে তার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কথা বলুন সেটা তার সাথে কিংবা তাকে নিয়ে অন্যের সাথে যদি আপনার কনসার্ন থাকে তবে অবশ্যই গোপনীয়তা রক্ষা করে।

শেষে একটি কথায় বলার আছে জোসেফ এ ডেবিটো এর হিউম্যান কমিউনিকেশন বই থেকে,

“There is no relationship what is static, it is dimensional.”

Writer: Muzakkir Rifat

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply