অপেক্ষা হলো শুদ্ধতম ভালোবাসার একটি চিহ্ন। সবাই ভালোবাসি বলতে পারে। কিন্তু সবাই অপেক্ষা করে সেই ভালোবাসা প্রমাণ করতে পারে না।

— – হুমায়ূন আহমেদ

পিলসুজ -শঙ্খ ঘোষ

সান্ধ্য-শহর এ কোন্ প্রান্তে নির্জন নীড় বাধে কৌশলে !
ঢেলেছি আমার মুখখানি তার দুঃখের কুন্তলে পলে পলে
হায় রে তিমির অন্ধ !
অন্ধ তিমির এ কী বিচিত্র কোরকে কোরকে ঢেকেছে সবুজ-
এলোমেলো দূর একখানি কালো আকাশের মালা ঢালা ঘাসে ঘাসে
হায় রে তিমির অন্ধ !
ঘরে ঘরে ঘন নিবিড় গহন কুস্তলে ঢেকে ক্লান্তিমোহন
লাবণ্যভাঙা মুখ—
তুমি প্রেয়সীর মতো ব্যথা তুলে তর্জনী তুলে শাসন তুলেছ
সান্ত্বনা নয় সান্ত্বনা নয়, শুধু কৌতুক-
পালা !
স্তব্ধ রজনী জেনে জেনে যায় নিদ্রাবিহীন জালা !!
তবু গর্বিতা অন্ধ বন্ধ তামসে হৃদয় ডাকে
প্রলয়ভঙ্গে টেনে এতদূর ‘খামো’ সে বলেছে কাকে ?
তিমিরের ফেনা ভেঙেছে দুধারে বিচলিত বাকে বাকে
চঞ্চল চলা থামে না, প্রেমের আঁচলে তন্দ্রা ঢাকে ৷
ইতস্তত একটি-দুটি গাছ
এভঙেছে বুক তিমিরসন্ধ্যার
যন্ত্রণায় ঘন গভীর চোখ
পাতায় পাতায়, একটি দুটি গাছ।

সারা শহর দিনের বাজ ফেলে
কাপছে রণরঙ্গে থই থই
এখানে তার প্রাণের মতো সখা
তিমির-ছেঁড়া একটি ছুটি গাছ !
আমার মাটি যন্ত্রণায় কাঁপে
শিকড়ে তারই অন্ধ আক্ষেপ
তুলেছে বুকে যন্ত্রণার ধারা
পাতা পাতায়, একটি-দুটি গাছ ।
পুঞ্জধার কুয়াশা ঘন-স্রাতে
শাদা নদীর প্রপাত-মতো নামে
প্রেমেরই মুখে চলেছি অবিরত—
আমার পাশে একটি-দুটি গাছ !
একটি গাছ পিলসুজ ছড়িয়ে পড়ে তাতো
হঠাৎ জাগা জ্যোৎস্নার শিখার কণিকা কি?
দুঃখ নেই কার কার ? এসো না এই পদে-
একটি ছোট গোল কুঁজ মাটিতে মুখ রাখি !
একটি গাছ পিলসুজ চাদের শিখা তাতে।

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0