Your time is limited, so don’t waste it living someone else’s life. Don’t be trapped by dogma – which is living with the results of other people’s thinking.

— Steve Jobs

ক্ষণজন্মা এটিএম শামসুজ্জামান(১৯৪১-২০২১)

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যাডাম ফুলি’ নামের বাংলা সিনেমা যখন ২০০০সাল পরবর্তী সময়ে বা তার আরো কিছু বছর পর BTV তে প্রায় দেখানো হত তখন আমরা ছিলাম একেবারে আনকোরা দর্শক..২টাকা দিয়ে গ্রামের দোকানে পালা করে সিনেমা দেখতাম..
তবে এটিএম শামসুজ্জামান ওরফে এট্টা নামের মানুষটাকে খুব চিনতে শুরু করি হাজার বছর ধরে এবং মোল্লা বাড়ির বউ সিনেমার যাত্রা দিয়ে..নোয়াখালী অঞ্চলের মাটি ও মানুষের মতো ছিলো সাবলীল অভিনয়..সিনেমা দেখে আমরা কখনো খুব বিরক্ত হতাম মানুষ এতো খারাপ হয়..!আসলে এটাই ছিলো একজন অভিনেতার সাফল্য.. একেবারে জীবনের কাছাকাছি চলে যাওয়া যাকে বলে আরকি..
চলচ্চিত্র জীবনে যাত্রা শুরু হয় ১৯৬১ সালে ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে..প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য..তার সাথে লিখেছেন আরো শতাধিক কাহিনী ও চিত্রনাট্য..১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও আলোচনায় আসেন ১৯৭৬ সালের চলচ্চিত্র ‘নয়নমণি’ তে খল চরিত্রে অভিনয় করে..১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার..
এখানেই থেমে থাকেন নি..পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র অভিনেতা বিভাগেও..নাটক,খন্ডনাটক,খলচরিত্রের সাথে অভিনয় করেছেন গোলাপী এখন ট্রেনে,স্বপ্নের নায়ক,হাজার বছর ধরে,সূর্যদীঘল বাড়ি,ওরা ১১জন,রামের সুমতি,নয়নমণির মতো সব কালজয়ী বাংলা সিনেমায়..পেয়েছেন একুশে পদক,আজীবন সম্মাননা..
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত মানুষের আকুন্ঠ ভালোবাসা পাওয়া মানুষটার শেষ ইচ্ছে ছিলো-আমি চিরদিন থাকবোনা,আমাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের..আমাকে যদি আপনারা আমার মৃত্যুর পরেও স্মরণ রাখেন আমি কৃতজ্ঞ থাকবো..আমি যেদিন যাব,যদি পারেন আমাকে টিক দিয়ে রাখবেন..
ক্ষণজন্মা এটিএম শামসুজ্জামান(১৯৪১-২০২১),
আপনি বেঁচে থাকবেন হৃদয়ে…মাটি ও মানুষে.. ❤️

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply