হে মুমিনগণ, যাহা তোমরা কর না, তাহা কেন বল? আল্লাহর নিকট ইহা অত্যন্ত ঘৃণিত যে, তোমরা বল যাহা, তাহা তোমরা কর না ৷ -28/61/1/2-3

— আল কোরআন

ইজ্জতভ্রষ্ট

আপনার অভিমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমি। আপনি এটাও বলেন নি, কতো অংশ সুবিধাবাদী! ধরে নিলাম কোন শিক্ষিত মানুষই দুর্নীতিবাজ বা সুবিধাবাদী নয়।
কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ, বাজে মানুষ, ভালো ভালো কাজ করতে পারবেন না, তা আপনি কোথায় পেলেন?
কেহ একজন শিক্ষকতা করছেন, ভালো কাজ। আবার তিনি জিম্মিকরে টাকা নিয়ে ব্যাবহারিক নাম্বার দিচ্ছেন।
চেয়ারে বসে দেশের সেবা করছেন, ভালো কাজ। আবার টেবিলের নিচে দিয়ে বা প্রকাশ্যে আপনার কাছ থেকেও ঘুষ নিচ্ছেন।
সত্য তেতো স্বাদের।
চারদিকের চেনা জানা মানুষগুলোকে এক এক করে বিশ্লেষণ করে দেখুন, দুর্নীতিবাজ বা সুবিধাবাদী কোন মানুষগুলো?
ফলাফল দেখে আপনি অবাক হয়ে যাবেন নিজেই। কারন, আপনি নিজের মতো করে সবাইকেই ভালো মানুষ মনে করলেও বাস্তব কিন্তু জঘন্ন।
কোনো না কোনো ভাবে দুর্নীতি বা সুবিধা ভোগের সাথে জড়িত শিক্ষিত উচ্চাভিলাষী মানুষগুলোই।
অশিক্ষিত মানুষের সেই সুযোগটাই নাই, আর তাদের নীতি আদর্শ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষিতদের চেয়ে অনেক উন্নত।
আপনি আরও বলেছেন
“কেউ টাকা দিয়ে ইজ্জত ক্রয় করেন, আবার কেউ টাকার বিনিময় ইজ্জত বিক্রি করেন।”
একমত, তবে আপনার কথা বুঝতে হলে কিছু শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য বুঝিয়ে বলার সুযোগ আছে।
যেমন
ইজ্জত মানে কি?
ইজ্জত এর মানে হলো সম্মান বা সম্ভ্রম; সতীত্ব, আবরু।
যিনি ইজ্জত দিলেন মানে সম্ভ্রম, সতীত্ব বা আবরু খোয়ালেন তাকে বলা হয় ধর্ষিত বা Fucked ।
যিনি ইজ্জত নিলেন মানে সম্ভ্রম, সতীত্ব বা আবরু লুট করলেন,তাকে বলা যায় ধর্ষক বা Fucker।
নিম্নতম স্তর থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত এর অর্থ একই। এই ঘৃণ্য অর্থ যদি শিক্ষিত মানুষগুলো বুঝতে পারতেন তবে অবৈধ অর্থ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহন করে নিজেই ধর্ষিত বা Fucked হতেন না।
একই ভাবে অবৈধ সুবিধা ভোগ করে শিক্ষিত ভদ্র কোন মানুষ নিজেকে ধর্ষক বা Fucker হিসাবে গণ্য হতে দিতেন না।
যে মেয়ে টাকার বিনিময়ে বিছানায় কাজ করে সে পতিতা, সে বেশ্যা। সে এই কাজ করে টাকা পায়। টাকা পায় ইজ্জতের বিনিময়ে।
একই ভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা, বংশ মর্যাদা, মানিজ্জতের বিনিময়ে বৈধ বা অবৈধ সুবিধা প্রদান করে অর্থাৎ নিজেকে ধর্ষিত বা fucked হতে দিয়ে যে টাকা অর্জিত হয় তা বাশ্যার অর্জিত অর্থের মতোই নিকৃষ্ট বা তার চেয়েও নিকৃষ্টতর।
মানে হলো, যারা ঘুষ নিচ্ছেন তারা ঘুষ দাতাকে ধর্ষণ করতে দিচ্ছেন। ধর্ষণ করতে দিচ্ছেন নিজেকেই। আর যারা ঘুষ দিচ্ছেন তারা অর্থের বিনিময়ে ঐ ঘুষখোরকেই ধর্ষণ করছেন।
পেশাদার বেশ্যার জন্য ধর্ষণ শব্দটা যথাযথ হয় না। যথাযথ শব্দটা আরও জঘন্য। পেশাদার ঘুষখোরের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের সমাজে এই দুটো শব্দই চরম ঘৃণ্য। এতোই ঘৃণ্য যে বাংলা প্রতিশব্দ ব্যাবহার করা গেলো না।
কিন্তু অভ্যস্ত বেশ্যার নিকটে, তার পরিবারের নিকটে এইসব কর্মকাণ্ড লজ্জার নয়। একই ভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ঘুষখোর ও তার পরিবার লজ্জিত হয় না। গর্বিত হয়।
কাস্টমার ধরার জন্য বেশ্যার প্রচার লাগে। ঘুষখোরও প্রচার করতে লজ্জিত হয় না।
“I don’t wish for that. Bustards never realize even they get fucked.”

Obayead Ullah

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

Leave a Reply